ইন্টারনেটের ইতিহাস

ইন্টারনেটের ইতিহাস: কিভাবে ARPANET থেকে আজকের বিশ্ব এলো

ইন্টারনেটের ইতিহাস: কিভাবে ARPANET থেকে আজকের বিশ্ব এলো

আজ আমরা যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তা রাতারাতি তৈরি হয়নি। এটি শত শত গবেষক ও বিজ্ঞানীর বহু বছরের প্রচেষ্টার ফসল। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন একটি সামরিক প্রকল্প থেকে শুরু করে আজকের পৃথিবীর সর্ববৃহৎ যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার এই ইতিহাসটি খুবই চমকপ্রদ।

১. শুরুর দিকে: ARPANET

ইন্টারনেটের প্রাথমিক ধারণা শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সংস্থা, ARPA (Advanced Research Projects Agency), একটি বিকেন্দ্রীভূত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেয়, যা পারমাণবিক হামলাতেও টিকে থাকতে পারবে। ১৯৬৯ সালে, এই প্রকল্পের অধীনেই তৈরি হয় **ARPANET**। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই প্রথমবার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কম্পিউটার থেকে আরেকটি কম্পিউটারে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল।

২. TCP/IP প্রোটোকল: ইন্টারনেট যুগের সূচনা

ARPANET-এর প্রযুক্তি শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কম্পিউটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৭০-এর দশকে গবেষক ভিন্ট সার্ফ এবং রবার্ট কান একটি নতুন প্রোটোকল তৈরি করেন, যার নাম **TCP/IP (Transmission Control Protocol/Internet Protocol)**। এই প্রোটোকলটি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয়। বলা যায়, এটিই আজকের ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি। এই আবিষ্কারের পর থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্র এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে থাকে।

৩. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web)

১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার টিম বার্নার্স-লি একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা ইন্টারনেটের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেয়। তিনি **CERN**-এ কাজ করার সময় ওয়েব ব্রাউজার, HTML, HTTP এবং URL-এর মতো মৌলিক প্রযুক্তিগুলো তৈরি করেন। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট ও ওয়েব পেজ তৈরি করা সম্ভব হয় এবং সাধারণ মানুষ খুব সহজে ইন্টারনেটে তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ১৯৯১ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এটিই ছিল ইন্টারনেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাইলফলক।

৪. বাণিজ্যিকীকরণ ও উত্থান

১৯৯৪ সালের পর ইন্টারনেটের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়। জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার, যেমন: Netscape Navigator এবং Microsoft Internet Explorer, এর ব্যাপক প্রসার ঘটায়। এই সময় থেকেই অনলাইনে কেনাকাটা, ইমেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবার প্রচলন শুরু হয়। দ্রুতই এটি ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

৫. আধুনিক ইন্টারনেট ও ভবিষ্যত

আজকের ইন্টারনেট শুধুমাত্র কম্পিউটারে সীমাবদ্ধ নয়। স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভি, এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশে জড়িয়ে আছে। সোশ্যাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ (IoT) নিয়ে এর ক্রমাগত বিবর্তন ঘটছে।

উপসংহার

ইন্টারনেটের ইতিহাস হলো উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং একটি উন্মুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন পূরণের ইতিহাস। এটি আমাদের যোগাযোগ, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কত পরিবর্তন আনবে তা কল্পনা করাও কঠিন।

ইন্টারনেটের কোন আবিষ্কারটি আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়?

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url