বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন
বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন: সংগ্রাম থেকে বিজয়
বাংলাদেশের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো, যা অসংখ্য সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বিজয়ের ঘটনায় সমৃদ্ধ। এই ইতিহাসে কিছু দিন এমন রয়েছে, যা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর তাৎপর্য বহন করে। নিচে তেমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিনের কথা তুলে ধরা হলো।
১. ভাষা আন্দোলন
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২: এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন করে। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের এই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘ এই দিনটিকে **আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস** হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২. স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিজয়
৭ মার্চ, ১৯৭১: ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণের প্রতিটি শব্দ ছিল স্বাধীনতার চূড়ান্ত আহ্বান।
২৫ মার্চ, ১৯৭১: এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর "অপারেশন সার্চলাইট" নামে এক বর্বর গণহত্যা শুরু করে। এই কালো রাত থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।
২৬ মার্চ, ১৯৭১: ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই দিনটি আমাদের **স্বাধীনতা দিবস**।
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১: মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার, যা "মুজিবনগর সরকার" নামে পরিচিত, শপথ গ্রহণ করে।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১: দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটি আমাদের **বিজয় দিবস**, যা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে নিশ্চিত করে।
৩. স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা
১০ জানুয়ারি, ১৯৭২: পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এই দিনটি **স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস** হিসেবে পালিত হয়।
৪ নভেম্বর, ১৯৭২: গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। এই সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫: বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই দিনটি **জাতীয় শোক দিবস** হিসেবে পালিত হয়।
উপসংহার
এই দিনগুলো শুধু কিছু তারিখ নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বিজয়ের প্রতীক। এগুলো আমাদের জাতিগত পরিচয় এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধকে মনে করিয়ে দেয়।